
১৯৭১ সালের এই দিনে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। মুজিবনগর এর আম্রকাননে গঠিত সরকারই মুক্তিযুদ্ধকে একটি সাংগঠনিক ও বৈধ রূপ দেয়, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার দাবিকে শক্তিশালী করে।
এই দিনটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের রাষ্ট্রের জন্মলগ্নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য—প্রায় প্রতি বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা কর্মসূচি, আলোচনা ও বার্তার মাধ্যমে দিবসটি স্মরণ করা হলেও, এ বছর নতুন সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত একটি আনুষ্ঠানিক বার্তাও দেখা যায়নি।
একটি জাতির ইতিহাস, বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের মতো গৌরবময় অধ্যায়—কোনো রাজনৈতিক সুবিধা-অসুবিধার বিষয় নয়। এটি আমাদের সম্মিলিত পরিচয়, আমাদের অস্তিত্বের ভিত্তি। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সেই ইতিহাসকে যথাযথ মর্যাদায় তুলে ধরা, নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
আমরা বিশ্বাস করি, ইতিহাসকে অবহেলা করা মানে নিজের শেকড়কে অস্বীকার করা। তাই সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান—মুজিবনগর দিবসের গুরুত্ব উপলব্ধি করে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করুন।
ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না, বরং ইতিহাস থেকেই ভবিষ্যতের পথনির্দেশ নিতে হবে।
